
ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো সমন্বিত হামলায় ঘাঁটি দুটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সোমবার ভোরে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর দাবি, হামলায় বিমানঘাঁটি দুটির কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান রাখার বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশটির ওপর আরও কোনো হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়। অভিযোগ ছিল, ওই ব্যবস্থাগুলো হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন বহনকারী রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় তাদের কয়েকজন সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আহত হয়েছেন। ওই হামলার পরই এর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল তেহরান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাঠামোতে পৌঁছালেও বিরোধের অবসান হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের পর জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই সপ্তাহ বোমা হামলা চালায় এবং নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।